অফিস – দেবর্ষি সাহা

রান্নাঘরে যেমন তেমন

ভাত-মাংস, রুটি,

হেড অফিসের ডাক এলে

দৌড়ে দৌড়ে ছুটি ||

বাসে ধাক্কা খেতে খেতে —

আধমরা হই অতি|

আমার বাপু অফিস কামাই

করতে ভ্রুকুটি ||

পাশের টেবিলের শম্পা ম্যাডামের

হিলওয়ালা সে চটি|

অামি কাজ ভুলে গিয়ে

করি খুনসুটী ||

মাসের শেষে মাইনা হাতে

মন খুশি অতি|

গিন্নী বলে ” কি খাবে গো?”

শুনে বায়না করে উঠি ||

………………………………………………………………

Advertisements

ফিরে যেতে চাই -দেবর্ষি সাহা

আজ আবার সেদিনে ফেরৎ যেতে চাই
সেই দিনে, যেদিন তোমায় প্রথম দেখেছি
সেই দিন, যেদিন তোমায় প্রথম ভালবেসেছি।
সেই দিন, যেদিন তুমি আমার প্রথম হাত ধরেছিলে,
ছুঁয়েছিলে আমার মনকেও।।

আবার সেদিনে ফেরৎ যেতে চাই
তোমাকে পাশে পেতে চাই।
তোমার সাথে পথ চলতে চেয়েছিলাম-

আজও মনে পড়ে, তোমার কাছে এসে বসা,
মনে পড়ে যায়, তোমার ওইটুকু চাওয়া
মনে পড়ে তোমাকে।।

আজ এতোটা পথ চলে এসেছি-
তুমি, কোথায় যেন হারিয়ে গেলে।
তোমাকে আমার মন খুঁজতে চায়
আবার তোমাকে কাছে পেতে চায়।।

যেদিন তোমায় প্রথম দেখেছিলাম
সেই সময়ে আমরা দুজনেই অচেনা ছিলাম!
আর সেই অচেনা ভাবের মধ্যেও-
এক চেনা মুখ ছিল।।

আবার সে পথে গিয়েই দাঁড়াতে চাই,
তোমাকে কাছে পেতে চাই –
যেখান থেকে আমাদের ছিল শুরু।।

…………………………………………………………….

রবিঠাকুরের প্রতি -দেবর্ষি সাহা

লিখতে বসেছি কবিতা
তোমার ভাষায়,
না, আমাদের বাংলা ভাষায় –
যে ভাষাকে আমৃত্যু মাতৃবন্দনা করে গেলে তুমি।

দিয়ে গেলে ভালোবাসার ধ্বনি,
দিয়ে গেলে প্রতিবাদের বাক্য –
দিয়ে গেলে মায়ের মুখের ভাষা।

হয়তো সাধারণের উর্ধ্বে উঠে
নিয়েছি কলম তোমার অনুপ্রেরণায।
কিন্তু, কি লিখবো আমি?

ভাষার সাগরে ডুব দিয়ে –
শুধু তোমার ছোঁয়াই পেয়ে যাই।

আমি বিশ্বকবি হতে চাই না,
চেয়েছিলাম ছন্দের তালে
দু-চার লাইন লিখে যেতে।

তবুও শব্দগুচছ বিদ্রোহ করে-
আমার কবিতার অংশ হতে।

আমি চাইনা হতে কবিগুরু,
চাইনা যশ, চাইনা নোবেল।

চেয়েছিলাম সমাজ সাধারণের জন্যে,
নিজের জন্যে লিখতে কিছু,
কিন্তু হয়ে ওঠেনি কোনটাই।।

বর্তমানে তোমার ধারালো কলমের ‘প্রশ্ন’
আজ নিশ্চিহ্ন।।

চাইনি রবিঠাকুর হতে,
চেয়েছিলাম লিখতে কবিতা –
হলোনা কিছুই।

আধুনিকতার ছোঁয়ায হারিয়ে যাচ্ছি আমরা –
ফিরে এসো তুমি,
এসে হাতে হাত মিলিয়ে
নতুন বিশ্ব তুলে ধরি।

নয়তো বিশ্বাযনের যুগে-
হারিয়ে যাব আমরা।
আর সঙ্গে তুমিও।।

————————–

Create a free website or blog at WordPress.com.

Up ↑